


জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ৩৮ বছরের শুভ্রজিৎ গাঙ্গুলি আরথারাইটিস রোগে আক্রান্ত । এই রোগের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য তাকে প্রতি মাসে দিতে হয় ৮২ হাজার টাকার দামে একটি ইনঞ্জেকসান । কিন্তু লকডাউনের সময় গোটা জলপাইগুড়ি জেলায় খোঁজ চালিয়েও মেলেনি এই জীবনদায়ী ঔষধ । তারপর তার পরিবারের লোকজন কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঔষধ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেও ঔষধের ব্যবস্থা করতে পারেনি । ঔষধ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে গাঙ্গুলি পরিবার ।
তখন তার এক ব্যবসায়ী বন্ধুর থেকে ঘটনাটি জানতে পারেন সোদপুরের ব্যবসায়ী কমল দাস । তখন তিনি যোগাযোগ করেন ঐ পরিবারের সাথে । জানতে পারেন ৭২ ঘন্টার মধ্যে শুভ্রজিত কে এই ইনঞ্জেকসান দিতে না পারলে তার বিপদ বড়বে । এই খবর শোনার পরই ঐ পরিবারের থেকে মেলে চেয়ে নেয় ডাক্তারী সব কাগজ । তার পরিচিত এক ঔষধ বিক্রেতার সাথে কথা বলে সেই জীবনদায়ী ঔষধ জোগাড় করেন মাত্র ৬২ হাজার টাকায় । তারপর খড়দহ থানার আই সি র সাথে কথা বলে পুরো বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজ তৈরি করে শুক্রবার সকালে রওনা দেন ।
৬০০ কিলোমিটার নিজের গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে নটায় শুভ্রজিতের বাড়ি পৌচ্ছে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন ঐ জীবন দায়ী ঔষধ । এই বিপদের দিনে জীবনদায়ী ঔষধ হাতে পেয়ে ব্যবসায়ী কমল দাস কে ভগবান বলে মনে করেন গাঙ্গুলি পরিবারের সদস্যরা । ব্যবসায়ী কমল দাস বলেন লকডাউনের প্রথম দিন থেকে অসহায় বিপদে পড়া মানুষের পাশে আছি যতদিন বাঁচব এই ভাবেই মানুষের পাশে থাকবো । ব্যবসায়ী কমল দাসের এই উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়েছে দুই জেলার মানুষ ।
